চাঁদপুরের কচুয়ায় মাদ্রাসা ছাত্র মিলন হত্যার দায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১ জনের যাবজ্জীবন

হত্যার শিকার মিলন হোসেন কচুয়া উপজেলার কান্দিরপাড় গ্রামের প্রধানিয়া বাড়ির মো. তাজুল ইসলামের ছেলে। মিলন স্থানীয় চাপাতলী মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শামিম হোসেন একই গ্রামের মো. ইমাম হোসেনের ছেলে এবং সোহাগ হোসেন পার্শ্ববর্তী পাড়াগাঁও গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাব্বি হোসেন কান্দিরপাড় গ্রামের ফরাজি বাড়ির আবুল বাসারের ছেলে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, হত্যার শিকার মিলনের পিতা তাজুল ইসলামের সঙ্গে আসামিদের স্বজনদের সম্পত্তিগত বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে ২০১৫ সালের ২৯ জুন দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মিলন বাড়ি থেকে পাশের রহিমানগর বাজারে যায়। বাজার থেকে বাড়ি না ফেরায় পরদিন ৩০ জুন কচুয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তার ভাই মো. রিপন হোসেন (২৫)।
এরপর ২ জুলাই স্থানীয়দের মাধ্যমে মিলনের পরিবার জানতে পারে, সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে আসামি শামিম, সোহাগ ও রাব্বি মিলনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কান্দিরপাড়ের জনৈক ইব্রাহিম খলিলের ধনচে ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পানিতে ডুবিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
বাদী রিপন হোসেন জানান, আসামিদের নাম-পরিচয় জানার পর স্থানীয়রা প্রথমে শামিমকে আটক করে। তার স্বীকারোক্তিতে বাকি দুই আসামি সোহাগ ও রাব্বির নাম জানা যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাদের আটক করে। ২ জুলাই ঘটনাস্থল থেকে মিলনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আসামিদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই দিনই রিপন হোসেন কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন কচুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওয়াজেদ আলী ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, মামলাটি দীর্ঘ ১০ বছর চলাকালীন সময়ে ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। আসামিদের অপরাধ স্বীকারোক্তি ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারক তাদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামি শামিম হোসেন ও সোহাগ হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড, ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অপর আসামি রাব্বিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নুরুল হক কমল।




