চাঁদপুর সকাল

ফরিদগঞ্জে ভাটিয়ালপুর এ-৬ খালের পুনঃখনন শুরু

৪ মাস আগে
ফরিদগঞ্জে ভাটিয়ালপুর এ-৬ খালের পুনঃখনন শুরু

চাঁদপুর সেচ প্রকল্পভুক্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলার ভরাট হয়ে যাওয়া সেচখালগুলো অবশেষে পুনঃখনন শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ পর খাল খনন শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষক মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) শনিবার (১৩ ডিসেম্বর ২০২৫) পৌর এলাকার ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন এ-৬ খালটির ডাকাতিয়া নদীর মুখ থেকে এই খনন কাজ শুরু করেছে।


খাল খননের ঠিকাদার মো. রাসেল জানান, তিনি ডাকাতিয়া নদীর মুখ থেকে এ-৬ খালের মোট ১,৪০০ মিটার অংশ খনন করবেন। ভেকুর চালক তানভীর হোসেন জানান, ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ খালটির দু’পাশে ২০ ফুট প্রস্থে এবং ৩ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করার নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।


সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভেকু দিয়ে খাল থেকে মাটি উঠানো হচ্ছে এবং স্থানীয় উৎসুক জনতা ও কৃষকরা এসে সেই দৃশ্য দেখছেন।


দীর্ঘদিনের ভরাট খাল পুনঃখননকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় কৃষক গিয়াস উদ্দিন, সোহেল হোসেন ও লুৎফুর রহমান শেখ জানান, কর্তৃপক্ষ যদি যথাযথভাবে খালটি খনন সম্পন্ন করে, তবে প্রতি বছর আমন ও বোরো মৌসুমে সেচ সংক্রান্ত যে সমস্যা তৈরি হয়, তা অনেকাংশেই দূর হবে।


উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম ভুট্টো নিশ্চিত করেছেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে খাল খননের কাজ নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।


তবে খাল খননের এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিআইপি কৃষক সংগ্রাম পরিষদ চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুরের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন দুলাল। তিনি এই কাজটিকে কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থে তাদের আন্দোলনের ফসল বলে উল্লেখ করেন।


তিনি বলেন, “খাল খনন শুরু হলেও কর্তৃপক্ষ আমাদের বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি। এমনকি খাল খননের বিষয়ে কোনো তথ্য গণমাধ্যম কর্মীদেরও না জানানোয় আমরা এদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান।”


স্থানীয় কৃষক ও জনতা আশা করছেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং নির্ধারিত মাপ অনুযায়ী এই খাল খনন কাজ শেষ হলে ফরিদগঞ্জের কৃষি অর্থনীতিতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।