চাঁদপুর সকাল

মতলব উত্তরে চর লক্ষ্মীপুর গ্রামে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর তীব্র ভাঙন

৩ মাস আগে
মতলব উত্তরে চর লক্ষ্মীপুর গ্রামে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর তীব্র ভাঙন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীপুর গ্রাম আবারও মেঘনা-ধনাগোদা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে।

বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবল স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বসতবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছর ভয়াবহ নদীভাঙন ঠেকাতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ২০ হাজার জিওব্যাগ ফেলেছিল।

কিন্তু মেঘনা-ধনাগোদা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে সেসব জিওব্যাগের অধিকাংশই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে নদীভাঙন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এবার বর্ষা শুরু হতেই নতুন করে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। চর লক্ষ্মীপুর গ্রামে প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস।

গ্রামটিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, একাধিক মসজিদ, একটি মাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও অসংখ্য পরিবারের একমাত্র সম্বল বসতভিটাও এখন নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিদিন নদীর পাড় ধসে পড়ায় নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই নদীভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয়। জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল দিচ্ছে না।

তারা দ্রুত একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে চর লক্ষ্মীপুরকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মেঘনা-ধনাগোদা নদী প্রকল্পের বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী তন্ময় পাল বলেন, “গত বছর জরুরি নদীভাঙন প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছিল।

তবে এটি ছিল সাময়িক ব্যবস্থা। বর্তমানে স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।” স্থানীয়দের আশা, দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে চর লক্ষ্মীপুরের হাজারো মানুষ নদীভাঙনের স্থায়ী আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাবে এবং তাদের জীবন-জীবিকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা পাবে।