চাঁদপুর সকাল

সপ্তম শ্রেণির বই একটিও আসেনি : হতাশায় মতলব উত্তরের শিক্ষার্থীরা

প্রায় ১ মাস আগে
সপ্তম শ্রেণির বই একটিও আসেনি : হতাশায় মতলব উত্তরের শিক্ষার্থীরা

নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই বই সংকটে পড়েছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে সপ্তম শ্রেণির একটি বইও উপজেলায় এসে না পৌঁছানোয় খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবুও প্রত্যাশামতো সব শ্রেণির বই শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছায়নি।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেনজির আহমেদ মুন্সির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম।

অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ, অষ্টম ও নবম শ্রেণির আংশিক বই বিতরণ করা হয়। কিন্তু সপ্তম শ্রেণির কোনো বই না থাকায় ওই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মতলব উত্তর উপজেলায় নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩ লাখ ১৪ হাজার ৮০৬টি বইয়ের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে মাত্র ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫৫টি বই। হিসাব অনুযায়ী, এখনও ঘাটতি রয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩৭টি বই, যা মোট চাহিদার মাত্র ৫৮.১৪ শতাংশ বই প্রাপ্তির সমান।
এর মধ্যে শুধুমাত্র মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের চাহিদা ২ লাখ ৪৩ হাজার ২০৬টি। কিন্তু উপজেলার হাতে এসেছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬৯টি বই। ফলে মাধ্যমিকে ঘাটতি রয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৭টি বই; সরবরাহের হার মাত্র ৫৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, মাদরাসা ও ইবতেদায়ি পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে সরবরাহ ভালো হলেও এখনও ঘাটতি রয়েই গেছে। এ স্তরের জন্য ৭১ হাজার ২০০টি বইয়ের চাহিদা থাকলেও পৌঁছেছে মাত্র ৪৭ হাজার ৩৬৬টি। এতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮৩৪টি বই; সরবরাহের হার ৬৬.৫২ শতাংশ।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, সবাই বই পেল, আমরা পেলাম না। এভাবে পড়াশোনা কীভাবে হবে?
অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই যদি বই না পাওয়া যায়, শিশুদের পড়াশোনায় বিরূপ প্রভাব পড়বে।

শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই বই না পেয়ে হতাশার মধ্যে ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীরা চাইছে যত দ্রুত সম্ভব সব বই হাতে পেতে, যাতে নির্বিঘ্নে শুরু হয় তাদের পাঠজীবন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, বই বিতরণ ধাপে ধাপে চলছে। সপ্তম শ্রেণির বইগুলো দ্রুত পৌঁছাতে উচ্চমহলে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে দ্রুত বই পৌঁছাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি। বই সংকট সহসাই শেষ হবে বলে আশা করছি।