চাঁদপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

চাঁদপুরে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিকাল ৫ টা থেকে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ থেকে ট্রাক ও ভ্যান গাড়িতে করে শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাকঢোলের সনাতনী বাজনার সঙ্গে দেবী-বন্দনার গানের মধ্য দিয়ে ভক্তরা বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় তারা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।
শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সন্ধ্যায় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ি চোখের জলে ধুপ, মোমবাতি আর তেল দিয়ে মাকে প্রণামের পাশাপাশি ভক্তরা কামনা করে আগামী দিনের সুখ শান্তি। এসময় একে একে চৌধুরীঘাট এলাকা সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীতে প্রতিমা বিসর্জন পর্ব শেষ করেন।
এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষে চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের আওতাধীন চারটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ নৌ-ঘাটসমূহে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা ডিউটির ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিকাল ৫টা থেকে বিসর্জন কার্যক্রম শুরু হয় এবং রাত ১০:৪৫ ঘটিকার মধ্যে চাঁদপুর জেলায় ২২৪ টি মন্দিরসমূহের মধ্যে ২১৯ টি প্রতিমা বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
চাঁদপুর সদর উপজেলার চৌধুরী ঘাটে পৌরসভার সহযোগিতায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চাঁদপুর কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মঞ্চ স্থাপন করা হয়। এই মঞ্চ থেকে মোট ২৫টি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় বিসর্জন কার্যক্রম পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন,পৃুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লেঃ কর্নেল মোয়াজ্জেম হোসেন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর পৌরসভা প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া, আবু আব্দুল্লাহ, যুগ্ম পরিচালক, এনএসআই চাঁদপুর, শওকত আহম্মদ, স্টেশন কমান্ডার, কোস্ট গার্ড চাঁদপুর, জামিউল হিকমা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,
চাঁদপুর সদর-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিসর্জন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে নৌ পুলিশ, জেলা পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা সার্বিকভাবে নিরাপত্তা ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। নৌ পুলিশ, চাঁদপুর অঞ্চলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সার্বিক পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে সকাল থেকে দুর্গাপূজায় মাকে বিদায় জানানোর জন্য মন্দিরে মন্দিরে চলে সিঁদুর খেলা। হিন্দু নারীরা প্রতিমায় সিঁদুর পরিয়ে দেন, নিজেরা একে অন্যকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। চলে মিষ্টিমুখ, ছবি তোলা আর ঢাকের তালে তালে নাচ-গান। শেষ বেলায় দেবী দুর্গার আরাধনায় ব্যস্ত ভক্তরা। ঢাকের তালে আর কাঁসার বর্ণিল আওয়াজে খুশিতে মেতে ওঠে শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সী নারী পুরুষ।
উল্লেখ্য, প্রতি বছরের মতো এবারও ৫ টি মন্দিরের দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে এক বছরের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।




